ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ

আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৭:২৬:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৭:২৬:১০ অপরাহ্ন
ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ


মো. লিখন ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক সেনা সদস্যকে আটক ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারী) রাত মধ্য রাতে উপজেলার মতিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক সেনা সদস্যের নাম মো. আলী হোসেন (১৯)। তিনি ডিমলা উপজেলার টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খরিবাড়ী এলাকার তেলিবাজারের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী মেয়েটি মতির বাজার এলাকার জয়নাল মিয়ার (ছদ্মনাম) উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া কন্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সেনা সদস্য আলী হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের পর আলী হোসেন বিয়েতে গড়িমসি শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সোমবার রাতে আলী হোসেন মেয়েটির বাড়িতে গেলে পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় দু’জনই প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে মেয়ের পরিবার বিয়ের দাবি জানালে আলী হোসেন সম্মতি দিলেও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এলাকাবাসী আরও বলেন, ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দু’জনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তবে বিয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনা সদস্য ও মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করে।

ভুক্তভোগী মেয়ে জানায়, আমাদের মধ্যে প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আলী হোসেন আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই আমরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াই। পরবর্তীতে এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।

এ বিষয়ে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলি এবং বিয়ের প্রস্তাব দিই। ছুটিতে বাড়িতে এসে আমি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। সে সময় এলাকাবাসী ও মেয়েটির ভাই আমাকে আটক করে এবং পরে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

সেনা সদস্যের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার রাতে আমি থানায় একটি এজাহার দায়ের করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি ওসি স্যারের কাছে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে তিনি জানান, যেহেতু মামলা রেকর্ড হয়েছে, তাই সেটি আদালতে পাঠানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেনা সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ